পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী দেশের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ আট দশক পার হলেও বিশ্ব এখনো পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত হতে পারেনি, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।
রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার শুধু বৈশ্বিক নিরাপত্তাকেই নয়, বরং উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রধারী অঞ্চলে অবস্থিত হলেও বাংলাদেশ স্বেচ্ছায় নিজেকে একটি অ-পরমাণু রাষ্ট্র হিসেবে ধরে রেখেছে।
এনপিটি চুক্তির অনুচ্ছেদ-৬ অনুযায়ী পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোর নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর সার্বজনীন বাস্তবায়ন জরুরি। শুধু নীতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়া সম্ভব।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, এসব উদ্যোগ পারমাণবিক হুমকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও নিরাপদ বিশ্ব গঠনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এনপিটি সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থান দেশের পররাষ্ট্রনীতির শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে এই ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের এই সম্মেলনে বাংলাদেশের আহ্বান বৈশ্বিক নিরাপত্তা, শান্তি ও নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক