বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। সংঘাত নিরসনে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮.৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে এই দাম ৪৫ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর আগের ট্রেডিং সেশনেও এই সূচক ২.৮ শতাংশ বেড়েছিল, যা টানা সপ্তম দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, মার্কিন বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। জুন ডেলিভারির জন্য এই তেলের দাম ৫৮ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। আগের সেশনে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২.১ শতাংশ বেড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা সরাসরি বাজারে দামের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যেকোনো কূটনৈতিক জটিলতা তেলের বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, কারণ দেশটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে হোয়াইট হাউস-এর অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার মতো সংবেদনশীল বিষয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচালনা করতে আগ্রহী নয়। বিষয়টি সরাসরি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে।
সিবিএস নিউজ-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সেক্রেটারি অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, এই ধরনের আলোচনায় গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো দরকষাকষি করা হবে না।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অবস্থানও পরিষ্কার বলে জানিয়েছে প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং দেশের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে একটি বিষয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, এই শর্ত নিশ্চিত করেই যেকোনো চুক্তি করা হবে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার ফলে এর প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা পরিবহন, বিদ্যুৎ এবং উৎপাদন খাতে খরচ বাড়াতে পারে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বর্তমান অচলাবস্থা শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নির্ভর করবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা।
কসমিক ডেস্ক