বলিউডের আলোচিত মাদক সংক্রান্ত একটি মামলায় অবশেষে স্বস্তি পেলেন দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর এবং নোরা ফাতেহি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে তাদের।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালে, যখন মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ শাখা এক অভিযানে মোহাম্মদ সেলিম ওরফে সোহেল শেখ নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার রুপি মূল্যের মেফিড্রোন নামক মাদক উদ্ধার করা হয়। তদন্তের সময় ওই অভিযুক্ত দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের পার্টিতে মাদক সরবরাহ করতেন, যেখানে বিনোদন জগতের অনেক তারকার উপস্থিতি থাকত।
এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয় এবং ২০২৫ সালে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। সে সময় তদন্তকারী সংস্থা কয়েকজন পরিচিত তারকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে। এর মধ্যে ছিলেন শ্রদ্ধা কাপুর ও নোরা ফাতেহি। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ওরহান আওয়াতরামানি (ওরি), অভিনেতা সিদ্ধান্ত কাপুর এবং রাজনীতিবিদ জিশান সিদ্দিকীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, অভিযুক্ত মাদক চক্রের সঙ্গে এই তারকাদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র পার্টিতে উপস্থিত থাকার অভিযোগ বা সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। নির্ভরযোগ্য প্রমাণের অভাবেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ টেকেনি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে ভক্তদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, যেখানে দেখা গেল গুজব বা সন্দেহের চেয়ে প্রমাণই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনার মাধ্যমে বলিউডে চলমান বিভিন্ন বিতর্কের মধ্যেও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই একটি নতুন চার্জশিট দাখিল করা হবে। এতে গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন এবং এক পলাতক অভিযুক্তের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে প্রমাণের অভাবে শ্রদ্ধা কাপুর ও নোরা ফাতেহির নাম সেই তালিকায় রাখা হচ্ছে না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিডিয়া ট্রায়াল বা জনমতের চাপের চেয়ে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগই একজন ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তদন্তের শেষে দুই অভিনেত্রীর জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর। একই সঙ্গে এটি বলিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্যও একটি ইতিবাচক দিক, যেখানে প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা উচিত নয়—এই বার্তাই আবারও স্পষ্ট হলো।
কসমিক ডেস্ক