রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে কৌশলে ভুলিয়ে দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা কখনোই সফল হবে না। তিনি মনে করেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নবগঠিত ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া-এর মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
রিজভী বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই এই ইতিহাসকে বিকৃত করা বা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা জনগণ কখনো মেনে নেবে না। তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো এবং সেই চেতনা ধারণ করানো সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে মতপার্থক্য, বিতর্ক ও প্রতিবাদ থাকতেই পারে, যা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে এসব বিষয় সমাধানের জন্য প্রয়োজন গঠনমূলক সংলাপ। আলোচনার মাধ্যমেই সব ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকলে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে আসবে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
এ সময় জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এটি কোনো একক দলের সমস্যা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেক দেশই মোকাবিলা করছে। তাই এ বিষয়ে অযথা রাজনৈতিক দোষারোপ না করে সমন্বিতভাবে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার ধীরে ধীরে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও জনগণের সহযোগিতা থাকলে দেশ বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
রিজভী আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো অবহেলা যেন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। শিশু মৃত্যুর মতো দুঃখজনক ঘটনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিজভীর এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি একটি সমন্বিত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হওয়ার পাশাপাশি সংলাপ, সহনশীলতা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।a
কসমিক ডেস্ক