সারা দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু ও সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সময়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে ১ হাজার ৪৩৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
রবিবার (২৪ মে) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে, তবে ঢাকায় সর্বোচ্চ মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া ১৬ শিশুর মধ্যে ঢাকায় ১০ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটে একজন করে মৃত্যুবরণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামে মোট ৪৪২ জন এবং নিশ্চিত হামে ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
একই সময়ে সারাদেশে হামের সন্দেহে ৫০ হাজার ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৬ হাজার ২১৪ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও হাজারো রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হলে বা কোনো অঞ্চলে টিকা কাভারেজ কম হলে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে শয্যা সংকট এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর চাপ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করতে এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। পাশাপাশি জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক