লিবিয়া থেকে মানবপাচারের শিকার এবং বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বুরাক এয়ারের এই বিশেষ ফ্লাইটে ত্রিপোলি থেকে তাদের বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান।
প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন সময় অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন ও চরম মানবেতর পরিস্থিতির শিকার হন। লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে তারা আটক ছিলেন।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এসব বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কাজ চলছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
দেশে ফেরার পর প্রত্যাবাসিতদের প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে আইওএমের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া যাদের প্রয়োজন, তাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিতদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন তাদের অভিজ্ঞতা সমাজে শেয়ার করেন, যাতে অন্যরা মানবপাচারের ফাঁদে না পড়ে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতা জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিবিয়া ও ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপ যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ রুটটি এখনো মানবপাচার চক্রের অন্যতম সক্রিয় পথ। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের তরুণরা উন্নত জীবনের আশায় এই পথে পা দিচ্ছেন, কিন্তু অনেকেই চরম দুর্ভোগ ও মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
সরকারি পর্যায়ে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবপাচার রোধে আরও কঠোর নজরদারি, সচেতনতা কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়েও প্রচারণা চালানো হবে।
লিবিয়া থেকে এই ১৭৪ জন বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন আবারও প্রমাণ করে, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার গুরুত্ব কতটা বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
কসমিক ডেস্ক