অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া দুই ইরানি নারী ফুটবলার নতুন করে নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা দেখছেন। তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দেশ তাদের এমন একটি সুযোগ দিয়েছে, যেখানে তারা ভয়মুক্তভাবে জীবনযাপন এবং খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আতেফেহ রামেজানিসদেহ এবং ফাতেমেহ পাসান্দিদেহসহ ইরানের নারী ফুটবল দলের সাতজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপ চলাকালে প্রাথমিকভাবে মানবিক ভিসা পান। তবে পরবর্তীতে দলের বাকি পাঁচজন সদস্য সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নিজ দেশে ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত এই দুই ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি সংবেদনশীল মুহূর্ত থেকে। ইরানে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেওয়ার সময় নারী ফুটবলাররা দেশের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান। এই সিদ্ধান্তের পর তাদের দেশে ফিরে গেলে সম্ভাব্য কঠোর প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে তাদের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা—উভয়ই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বিবৃতি দেন রামেজানিসদেহ ও পাসান্দিদেহ। তারা সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ফিরে পাওয়া।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, নতুন পরিবেশে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন তারা। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায়ের সহায়তা ও আন্তরিকতায় তারা মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান। এই সহমর্মিতা তাদের জন্য কঠিন সময়ে সাহস জুগিয়েছে এবং একাকীত্ব কাটাতে সাহায্য করেছে।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই দুই ফুটবলার। তারা বলেন, নিরাপদভাবে বসবাস এবং নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
বর্তমানে এই দুই খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগের ক্লাব ব্রিসবেন রোয়ারের নারী দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন। সেখানে তারা নিজেদের ফিটনেস ও দক্ষতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের আশা, এই নতুন পরিবেশে তারা নিজেদের ক্যারিয়ার আবারও গড়ে তুলতে পারবেন।
এই পুরো ঘটনার পেছনে রয়েছে বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাত পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরে ও বাইরে নানা ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সেই অস্থিরতার মধ্যেই ইরানি নারী ফুটবল দলের সদস্যদের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, দুই ইরানি নারী ফুটবলারের এই যাত্রা শুধু একটি ক্রীড়া গল্প নয়, বরং এটি নিরাপত্তা, অধিকার এবং নতুন জীবনের সন্ধানের একটি বাস্তব চিত্র। অস্ট্রেলিয়ায় তাদের এই নতুন শুরু ভবিষ্যতে কীভাবে রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কসমিক ডেস্ক