রংপুরের মাহিগঞ্জে সরকারি রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে কল্যাণী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়া নদীর পাড় এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নয়া নদীর পাড়ের একটি সরকারি রাস্তা দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে রাস্তা দখল এবং নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর তা রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল এবং দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে পুরো কল্যাণী এলাকা এক প্রকার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়রা ভয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কয়েক দফা লাঠিচার্জ করে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শান্তি ফেরায়।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছু আহতকে ছেড়ে দেওয়া হলেও গুরুতর আহতরা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সরকারি রাস্তা দখল নিয়ে পূর্বেও বিরোধ সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “সরকারি রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।”
পুলিশ সূত্র জানায়, সংঘর্ষের মূল কারণ নির্ধারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি সম্পত্তি দখল এবং প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। নইলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমি ও সরকারি সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এটি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।
এ ঘটনা রংপুরে সরকারি রাস্তা দখল ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রশাসনের সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে সামান্য বিরোধও রূপ নিতে পারে ভয়াবহ সংঘর্ষে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।
কসমিক ডেস্ক