স্পেনের একটি আদালত দেশটির জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড ও লা লিগার ফুটবলার রাফা মিরকে দুই নারীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে সাড়ে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায় স্প্যানিশ ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত সোমবার ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের একটি নিম্ন আদালত এ রায় ঘোষণা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০২৪ সালে ভ্যালেন্সিয়া শহরে রাফা মিরের নিজস্ব বাসভবনে এই যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। সে সময় তিনি স্থানীয় ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে খেলছিলেন।
আদালত রায়ে রাফা মিরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং শারীরিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগে আরও ১৮ মাস (দেড় বছর) কারাদণ্ড প্রদান করেন। সব মিলিয়ে তার মোট সাজা দাঁড়ায় সাড়ে আট বছর।
২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গত মৌসুমে সেভিয়া থেকে ধারে লা লিগার ক্লাব এলচেতে খেলেছেন। চলতি মাসের শেষে এলচের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
একই মামলায় আরও একজন ফুটবলারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পাবলো জে. জি. নামের ওই খেলোয়াড় স্পেনের নিম্ন স্তরের লিগে খেলেন। আদালত তাকে যৌন নির্যাতন ও শারীরিক ক্ষতি সাধনের দায়ে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেন।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটিতে দুই ফুটবলার একসঙ্গে অংশ নেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তবে রায় ঘোষণার পর রাফা মির নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওই দুই নারী পারস্পরিক সম্মতিতেই তার সঙ্গে সম্পর্ক করেছিলেন এবং কোনো ধরনের জোরাজুরি বা অপরাধমূলক আচরণ হয়নি।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পরিবর্তিত হতে পারে।
এই রায়ের পর স্প্যানিশ ফুটবল মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে খেলাধুলার জগতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত আচরণ ও আইনি জবাবদিহি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে এমন গুরুতর অভিযোগ ও দণ্ডাদেশ শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, সংশ্লিষ্ট ক্লাব ও লিগের ভাবমূর্তিতেও বড় প্রভাব ফেলে।
সব মিলিয়ে রাফা মিরের এই কারাদণ্ড স্প্যানিশ ফুটবলে একটি আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি।
কসমিক ডেস্ক