গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের চার সাবেক কর্মকর্তাকে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন খুলনার আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের মোট ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে অতিরিক্ত কারাদণ্ডও ভোগ করতে হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহা. আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রুনা লায়লা, সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইনছার আলী, সাবেক দ্বিতীয় কর্মকর্তা রমেশ বিশ্বাস এবং সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মমতাজ পারভীন।
দুদকের খুলনা সমন্বিত কার্যালয়ের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মোফাক্কার হোসেন মনি জানান, ২০১৪ সালের ৩০ মে গ্রামীণ ব্যাংকের চন্দনপুর শাখার ১৯৩ জন গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক এস এম শামীম ইকবাল বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।
প্রথম মামলায় ১২৬ জন গ্রাহকের ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় ইনছার আলী, মমতাজ পারভীন ও রমেশ বিশ্বাসকে পৃথক দুটি ধারায় ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্য মামলায় ৬৭ জন গ্রাহকের ৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় রুনা লায়লা, রমেশ বিশ্বাস ও ইনছার আলীকে পৃথক দুটি ধারায় ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
দুদকের আইনজীবী জানান, পৃথক দুটি মামলায় আত্মসাতের অভিযোগে মোট ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার সমপরিমাণ অর্থ আসামিদের জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও দুই বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
কসমিক ডেস্ক