গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস প্রথম নির্মাণচুক্তি দিতে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ঘরবাড়ি বা মানবিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে প্রথম প্রকল্প হিসেবে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫০ সদস্যের মরক্কোর সেনাদের থাকার জন্য এই ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত না হলেও নির্মাণকাজের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্কেল ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সরকারের প্রকল্পে কাজ করেছে।
গাজা পুনর্গঠনের তদারকির জন্য গত জানুয়ারিতে বোর্ড অব পিস গঠন করেন ট্রাম্প। তিনি নিজেই বোর্ডটির চেয়ারম্যান। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফের।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ড এবং গাজা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের সংগঠন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার (এনসিএজি) কয়েকটি নির্মাণচুক্তি প্রস্তুতের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণসংক্রান্ত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সামরিক ঘাঁটির আয়তন হবে ১০০ মিটার বাই ১২০ মিটার। এটি গাজার এমন একটি এলাকায় নির্মাণ করা হবে, যার প্রায় ৬০ শতাংশ বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘাঁটিটি ইসরাইল সীমান্ত থেকে প্রায় এক মাইল দূরে হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ-অনুমোদিত পরিকল্পনায় গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে বাহিনীর আইনি কাঠামো ও সেনা মোতায়েনের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মরক্কো সীমিতসংখ্যক সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।
এর আগে আলোচিত একটি খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫০ সদস্যের এই ঘাঁটি ভবিষ্যতে পাঁচ হাজার সদস্যের বড় সামরিক ঘাঁটি তৈরির প্রথম ধাপ হতে পারে।
এদিকে গাজা পুনর্গঠনের প্রাথমিক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে বর্তমান উদ্যোগ অনেক ছোট পরিসরে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের ফলে গাজার বিপুলসংখ্যক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং লাখো মানুষ এখনো অস্থায়ী ও অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়ে বসবাস করছেন। এমন পরিস্থিতিতে পুনর্গঠনের প্রথম প্রকল্প হিসেবে সামরিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক