২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের ঘটনাকে বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ঘটনাটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাগত দিক বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, শেখ হাসিনা সামরিক হেলিকপ্টারে করে দেশ ত্যাগ করেন। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করে, তার দেশত্যাগের পর রাজধানীর গণভবনে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রবেশ করে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দেশত্যাগের তথ্য প্রকাশ করে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করে এবং হেলিকপ্টারের সম্ভাব্য গন্তব্য ও যাত্রাপথের বিবরণ দেয়।
ভারতের ইন্ডিয়া টুডে জানায়, শেখ হাসিনাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে, যেখানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
বিবিসি ঘটনাটিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করে এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের উচ্ছ্বাসের বিষয়টি তুলে ধরে। দ্য গার্ডিয়ান সেনাপ্রধানের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে।
রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিএনএন এবং এনপিআরও তাদের প্রতিবেদনে সরকারবিরোধী আন্দোলন, শত শত মানুষের প্রাণহানি, শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণার বিষয়টি তুলে ধরে। দ্য ডিপ্লোম্যাট ঘটনাটিকে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক শাসনের সমাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্লেষণ প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনের সময় প্রাণহানি, আহত ও গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন, জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এবং এর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়।
কসমিক ডেস্ক