ভারতের মাইক্রোসফটের আসিয়ান অঞ্চলের জেনারেটিভ এআই পরিচালক ও কান্ট্রি হেড রঞ্জনী মণির জীবনযুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে ৬৮ বছর বয়সী মায়ের অসাধারণ আত্মত্যাগে। দীর্ঘদিন ধরে বংশগত কিডনি রোগ অটোসোমাল ডমিন্যান্ট পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (ADPKD)-এ ভুগছিলেন তিনি। অবশেষে মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সুস্থতার পথে ফিরছেন এই প্রযুক্তি নির্বাহী।
লিঙ্কডইনে প্রকাশিত এক আবেগঘন পোস্টে রঞ্জনী জানান, মাত্র ২০ বছর বয়সে তার শরীরে এডিপিকেডি ধরা পড়ে। একই রোগে তার বাবাও আক্রান্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বাবার সেই কঠিন অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ব্যায়াম এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন।
তবে গর্ভাবস্থায় জটিলতা দেখা দিলে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। কয়েক মাস আগে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেলে চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। আজীবন ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে আগেভাগেই প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ডোনার পাওয়া ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত ৬৮ বছর বয়সী তার মা স্বেচ্ছায় একটি কিডনি দান করেন। সফল অস্ত্রোপচারের পর রঞ্জনী লেখেন, “আমি সত্যিই ভাগ্যবান। আমার মা ৬৮ বছর বয়সে আমাকে তার কিডনি দিয়েছেন। এক অর্থে তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার জন্ম দিয়েছেন।”
নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, এটি সহানুভূতি অর্জনের জন্য নয়; বরং একই রোগে আক্রান্ত মানুষদের সাহস জোগাতে এবং সচেতনতা বাড়াতেই তিনি পুরো বিষয়টি প্রকাশ করেছেন।
রঞ্জনী আরও জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে তিনি নারীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি কিডনি রোগে আক্রান্তদের সহায়তায় একটি ফাউন্ডেশনকে সমর্থন দেওয়ারও ইচ্ছা রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক, পরিবার, সহকর্মী এবং মাইক্রোসফটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন।
কসমিক ডেস্ক