বিশ্ব ফুটবলে যখন বড় বড় ক্লাব যেমন বার্সেলোনা বা ম্যানচেস্টার সিটি বিশ্বকাপের মতো আসর থেকে বিপুল অর্থ আয় করছে, তখন ভিন্ন বাস্তবতায় টিকে থাকার লড়াই চালিয়েছে পেরুর ঐতিহ্যবাহী ক্লাব দেপোর্তিভো মিউনিসিপাল।
১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি একসময় পেরুর শীর্ষ লিগে দীর্ঘ সময় খেলেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবনমন ঘটে তাদের পারফরম্যান্স ও আর্থিক অবস্থার। বর্তমানে তৃতীয় বিভাগে খেলা এই ক্লাবটি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, স্পনসর সংকটে দেউলিয়াত্বের মুখে পড়ে।
এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তারা নেয় এক অভিনব উদ্যোগ। সাধারণত একটি ফুটবল দলের জার্সিতে দুই বা তিনটি বড় স্পনসর থাকে। কিন্তু দেপোর্তিভো মিউনিসিপাল ভিন্ন পথ বেছে নেয়—তারা জার্সিতে জায়গা করে দেয় হাজারো ছোট স্পনসরকে।
জার্সির সামনের লাল স্যাশ অংশের ওপর ও নিচে ছোট ছোট বর্গাকার জায়গা তৈরি করে সেখানে স্থানীয় দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ সমর্থকদের বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ দেয়। প্রতিটি স্পটের মূল্য রাখা হয় ২০০ পেরুভিয়ান সোলস (প্রায় ৭,৩৮৮ টাকা), যা অনেকের জন্যই সহজলভ্য।
এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয় ‘দ্য থাউজেন্ড স্পনসর অব মুনি’। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পেছনে না ছুটে স্থানীয় কমিউনিটিকেই শক্তি হিসেবে ব্যবহার করার এই কৌশল দ্রুত সাড়া ফেলে। এর ফলে ক্লাবটি দেউলিয়াত্ব থেকে রক্ষা পায় এবং নতুন করে আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন করে।
শুধু তাই নয়, এই সৃজনশীল প্রচারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। বিজ্ঞাপন জগতের মর্যাদাপূর্ণ কান লায়নস ফেস্টিভ্যাল অব ক্রিয়েটিভিটি-তে তারা গ্র্যান্ড প্রিক্স পুরস্কার অর্জন করে।
দেপোর্তিভো মিউনিসিপালের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—সৃজনশীলতা ও কমিউনিটির শক্তি থাকলে সীমিত সম্পদ নিয়েও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব।
কসমিক ডেস্ক