ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন করলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে ভিডিও প্রকাশেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) আন্দোলন ও অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে যন্তর-মন্তরে গিয়ে রাহুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আজকাল গভীর রাতে ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত। তিনি পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা আশ্বাস নয়, অ্যাকশন চায়। প্রধানমন্ত্রীর উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন করার আশ্বাস দেন। ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটিরও বেশি ভিউ পেয়ে আলোচনায় আসে। পরদিন আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে দর্শকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিন অনশন করেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাসের পর তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।
যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষামন্ত্রীকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে। তবে তিনি বলেন, “এটি গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরকারের বাইরে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ ও ছররা গুলি চালানোর ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আহত এক শিক্ষার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে রাহুল বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থার প্রধান হিসেবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি মন্তব্য করেন, “মোদি ভারতের অতীতের প্রতীক, আর শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ। অতীত কখনো ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারে না।”
কসমিক ডেস্ক