ভারতের দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ঘিরে সরব হয়েছেন দেশটির একাধিক সেলিব্রেটি। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগের পর সরকারের প্রতি তাদের দাবি—শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পাটি-সিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন। পরে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে।
সোমবার ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে আন্দোলনকারীরা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে পুলিশ ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান। অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-পরিচালক প্রকাশ রাজ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগ দিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন।
শাবানা আজমি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দেশের সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের কোনো সহিংসতার উদ্দেশ্য নেই এবং তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই নিজেদের দাবি জানাচ্ছেন।
অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ পুলিশি আচরণের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়। তিনি কর্তৃপক্ষকে তরুণদের অভিযোগ ও ক্ষোভ শোনার আহ্বান জানান।
তারকা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, দেশের যুবসমাজের কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে শোনার সুযোগ পাওয়া উচিত, কারণ তারাই দেশের ভবিষ্যৎ।
অভিনেত্রী হুমা কুরেশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে হতাশা প্রকাশ করেছেন। চিত্রনাট্যকার সুতপা সিকদার বলেন, অনেক শিক্ষার্থী সাধারণ পরিবার থেকে এসে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন।
এ ছাড়া নন্দিতা দাস, ভূমি পেদনেকর, সোনি রাজদান, জিনাত আমান, অভয় দেওল, নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, ওমি বৈদ্য ও সোনাক্ষী সিনহাসহ আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।
সেলিব্রেটিদের বক্তব্যে মূল বিষয় ছিল—শিক্ষার্থীদের দাবি ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা।
কসমিক ডেস্ক