ঝগড়া-বিবাদ এমন একটি আগুন, যা মুহূর্তেই ভালোবাসাকে ঘৃণায়, বন্ধুত্বকে শত্রুতায় এবং শান্তিকে অশান্তিতে পরিণত করতে পারে। একটি কঠোর বাক্য, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অহংকারের কারণে বহু পরিবার ভেঙে যায়, আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হয় এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে মতের অমিলকে অনেক সময় শত্রুতায় রূপ দেওয়া হয়। ফলে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সৌহার্দ্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইসলাম এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কোরআন ও হাদিসের আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
প্রথমত, আল্লাহভীতি ও তাকওয়া অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন কর।” (সুরা আনফাল: ১)
দ্বিতীয়ত, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, “যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” (সুরা আলে ইমরান: ১৩৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।” (সহিহ বুখারি: ৬১১৪)
তৃতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক থেকে বিরত থাকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও তর্ক-বিতর্ক পরিহার করে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের জামিন।” (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮০০)
চতুর্থত, নম্র ও কোমল ভাষায় কথা বলা। আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, “তোমরা তার সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বলো।” (সুরা ত্বহা: ৪৪)
পঞ্চমত, ক্ষমাশীল হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। আল্লাহ তাআলা বলেন, “ক্ষমা করো, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।” (সুরা আরাফ: ১৯৯)
ষষ্ঠত, গীবত, অপবাদ ও কুৎসা রটানো থেকে বিরত থাকা। কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা একে অপরের গীবত করো না।” (সুরা হুজুরাত: ১২)
সপ্তমত, সালামের প্রসার ঘটানো এবং সম্পর্ক দৃঢ় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।” (সহিহ মুসলিম: ৫৪)
অষ্টমত, মানুষের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, “মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।” (সুরা হুজুরাত: ১০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, “পারস্পরিক সম্পর্ক মীমাংসা করে দেওয়া নফল নামাজ, রোজা ও সদকার চেয়েও উত্তম।” (জামে তিরমিজি: ২৫০৯)
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, ঝগড়া-বিবাদ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, সংযম, সুন্দর আচরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই প্রত্যেকের উচিত মতভেদকে শত্রুতায় রূপ না দিয়ে প্রজ্ঞা, সহনশীলতা এবং ইসলামের নির্দেশনা অনুসরণ করে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
কসমিক ডেস্ক