ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ফেদোরভকে পুনর্বহালের দাবি তোলেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কিয়েভে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল ‘ফেদোরভকে সরানো চলবে না’ এবং ‘বিজয়ের পথে বাধা দেওয়া বন্ধ করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড। বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ‘লজ্জা! লজ্জা!’ স্লোগানও দেন।
ফেদোরভকে সরানোর সিদ্ধান্তে ইউক্রেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং নাগরিক সমাজের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে যে, সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে মতবিরোধই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হতে পারে।
ফেদোরভ নিজেও জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি এবং চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ আন্দ্রি হ্নাতভকে দায়িত্ব থেকে সরানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট সিরস্কিকে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানানোর পর তিনি তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্বীকার করেন যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেনারেল স্টাফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত মতবিরোধ ছিল। তিনি বলেন, তার মধ্যস্থতা ছাড়া দুই পক্ষের সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইয়েভহেন খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর খমারার নাম আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠানো হবে।
ফেদোরভের অপসারণ এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক