ভারতের জনপ্রিয় কমেডি অনুষ্ঠান ‘দ্য কপিল শর্মা শো’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের কমতি নেই। কপিল শর্মা ও তার টিমের তাৎক্ষণিক কৌতুক, সেলিব্রিটিদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলাপ এবং মঞ্চের স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশকে অনেকেই পুরোপুরি বাস্তব বলে মনে করেন। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সদস্য ও জনপ্রিয় অভিনেতা কিকু শারদা এই ধারণার আংশিক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে কিকু জানান, অনুষ্ঠানের প্রায় ৭০ শতাংশই আগে থেকে প্রস্তুত করা স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী পরিচালিত হয়, আর বাকি ৩০ শতাংশ নির্ভর করে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি, অতিথিদের প্রতিক্রিয়া এবং শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ের ওপর।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পর্বের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ও পরিকল্পনা থাকে। তবে সেলিব্রিটি অতিথিদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় অনেক কিছুই মুহূর্তের পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে যায়। অনেক সময় অতিথিদের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে নতুন সংলাপ বা কৌতুক তৈরি করতে হয়।
কিকু আরও বলেন, অনুষ্ঠানে অতিথিদের আগেভাগে পাঞ্চলাইন বা চরিত্র সম্পর্কে জানানো হয় না। কারণ নির্মাতারা চান অতিথিদের স্বাভাবিক ও অকৃত্রিম প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ুক। এতে দর্শকরাও বাস্তবধর্মী বিনোদনের স্বাদ পান।
সুপারস্টার সালমান খান সম্পর্কে অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে কিকু বলেন, সালমানকে কী হাসাবে, তা আগে থেকে অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। কখনও পরিকল্পিত কৌতুক প্রত্যাশিত সাড়া পায় না, আবার হঠাৎ বলা কোনো সংলাপেই তিনি প্রাণ খুলে হাসতে শুরু করেন।
কপিল শর্মার প্রশংসা করে কিকু জানান, কোনো কৌতুক প্রত্যাশামতো কাজ না করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে কপিলের। তিনি খুব দ্রুত বুঝতে পারেন কোন অংশটি দর্শকদের কাছে কাজ করছে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সংলাপ বা মন্তব্যের মাধ্যমে পুরো পরিবেশকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে পারেন।
দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার ফলে পুরো টিমের মধ্যে দারুণ সমন্বয় তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন কিকু। তার মতে, এখন তারা প্রায় একে অপরের ভাবনা বুঝে অভিনয় করতে পারেন, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও স্বাভাবিক ও উপভোগ্য করে তোলে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সনি টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করা ‘দ্য কপিল শর্মা শো’ পরবর্তীতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনুষ্ঠানটি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শকদের কাছে এখনও সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।
কসমিক ডেস্ক