যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সাম্প্রতিক হুমকিমূলক বক্তব্যের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি Mohammad Bagher Zolghadr বলেছেন, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলতে হবে। অন্যথায় একইভাবে কঠোর ভাষায় জবাব দেওয়া হবে।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জোলঘাদর সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, “ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্মান দেখিয়ে কথা বলুন, মি. ট্রাম্প। অন্যথায় আমরা আপনাকে ভিন্ন ভাষায় জবাব দেব।” তার এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ‘একভাবে বা অন্যভাবে জয়ী হবে’। ট্রাম্পের ভাষায়, “হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো কাজ শেষ করে দেব। আর সেটি শেষ করা কঠিন হবে না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জোলঘাদর বলেন, ট্রাম্প বাস্তবতা সম্পর্কে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ পোষণ করছেন। তার দাবি, হাজার বছরের ইতিহাস ও সমৃদ্ধ সভ্যতার অধিকারী ইরান অতীতেও নানা ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক হুমকির মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু এসব চাপ কখনোই দেশটিকে নত করতে পারেনি। বরং শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথেই ফিরতে হয়েছে প্রতিপক্ষকে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণ বিদেশি শক্তির ভয়ভীতি বা চাপের কাছে মাথা নত করার ইতিহাস বহন করে না। তাই হুমকির ভাষা ব্যবহার করে ইরানকে নীতিগত অবস্থান থেকে সরানো সম্ভব হবে না।
ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যে কোনো আগ্রাসন, সামরিক হুমকি বা উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাব তারা প্রয়োজনীয় ও উপযুক্তভাবে দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক সংঘাত এবং নিষেধাজ্ঞা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। উভয় পক্ষের কড়া বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ কঠিন হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়ার ওপর। যদিও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিচ্ছে, তবুও সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরছেন।
এদিকে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং জোলঘাদরের পাল্টা প্রতিক্রিয়া নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এই উত্তেজনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
কসমিক ডেস্ক