ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। মাঠের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও আর্থিক দিক থেকে বড় অঙ্কের পুরস্কার নিয়েই দেশে ফিরছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ফিফার নির্ধারিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ এবং শেষ ষোলো পর্যন্ত ওঠার সুবাদে ব্রাজিল মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার পাবে।
ফিফার ঘোষিত পুরস্কার কাঠামো অনুসারে, বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দলকে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি মূল পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি জাতীয় দলকে আরও ১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার অংশগ্রহণ ভাতা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার দলগুলোর প্রস্তুতি ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল।
ফলে অংশগ্রহণ ভাতা এবং শেষ ষোলো পর্যন্ত ওঠার পুরস্কার মিলিয়ে ব্রাজিলের মোট প্রাপ্তি দাঁড়াচ্ছে ২ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য আনুমানিক ১২৪ টাকা হিসেবে হিসাব করলে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় সমর্থকদের হতাশা থাকলেও এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্রাজিল ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় দলের উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক দল গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কোচিং কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে এই অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে পুরস্কারের অর্থ আগের যেকোনো আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে ফিফা। ২০২৬ সালের আসরে মোট ৭২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার মোট পুরস্কারের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
শুধু অংশগ্রহণকারী দলই নয়, টুর্নামেন্টে যত এগোনো যাবে, পুরস্কারের পরিমাণও তত বাড়বে। ফিফার ঘোষিত কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬২০ কোটি টাকার সমান। রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা এবং চতুর্থ স্থান অধিকারী দল পাবে প্রায় ৩৮৯ কোটি টাকা।
ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি দলের জন্য শেষ ষোলো থেকে বিদায় অবশ্যই হতাশাজনক। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচিত হলেও নকআউট পর্বে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি সেলেসাওরা। ফলে আরও বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে।
তারপরও ফিফার বর্তমান পুরস্কার নীতির কারণে ব্রাজিলের আর্থিক ক্ষতি হয়নি। বরং কয়েকশ কোটি টাকার এই অর্থ ভবিষ্যতে জাতীয় দল পুনর্গঠন, তরুণ খেলোয়াড় তৈরির প্রকল্প, প্রশিক্ষণ সুবিধা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
মাঠে হতাশার সমাপ্তি হলেও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বকাপ ২০২৬ ব্রাজিল ফুটবলের জন্য ইতিবাচক বার্তাই বয়ে এনেছে। এখন এই পুরস্কারের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে পারে, সেটিই হবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কসমিক ডেস্ক