ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছয় দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দেশটি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যানুষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী দিকনির্দেশনাবিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি জানিয়েছেন, জানাজা উপলক্ষে দেশজুড়ে গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি কাভার করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ইরানে অবস্থান করবেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, জানাজা ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে প্রায় দেড় থেকে ২ কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী আব্বাস সালেহি বলেন, এই অনুষ্ঠান শুধু একজন নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরোধক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে। তিনি আরও জানান, দেশের খ্যাতিমান প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতারা পুরো আয়োজন নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র নির্মাণ করছেন। পাশাপাশি ঐতিহাসিক এই মুহূর্ত সংরক্ষণের জন্য বিশেষ আলোকচিত্র কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এরপর প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোম, ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে শোকানুষ্ঠান আয়োজনের পর ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
কসমিক ডেস্ক