দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন পাইলটের দেহাবশেষ ৮২ বছর পর থাইল্যান্ডে উদ্ধার এবং শনাক্ত করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া এই দেহাবশেষ ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ম্যাককিনির, যিনি ১৯৪৪ সালের ৫ নভেম্বর যুদ্ধকালীন একটি মিশনে উড্ডয়নের পর নিখোঁজ হন।
তৎকালীন সময়ে চীনের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে যাত্রা শুরু করার পর তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘ কয়েক দশক পর নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার সন্ধান পাওয়ার প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়।
২০০৮ সালে মার্কিন বিমানবাহিনী একাডেমির তৎকালীন ক্যাডেট ড্যান জ্যাকসন এবং থাই বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা নিখোঁজ বিমানের অবস্থান অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেন। এরপর ২০১১ সালে ব্যাংককের একটি বন্যার পর পুরোনো সামরিক নথিপত্র গোছানোর সময় ১৯৪৪ সালের একটি লগবুক উদ্ধার হয়। সেই নথিতে উত্তর থাইল্যান্ডে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য এবং স্থানীয়দের একটি মাথার খুলি পাওয়ার উল্লেখ ছিল।
এই সূত্র ধরে ২০১৭ সালে গবেষকরা দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মে কুয়া গ্রামের ৯৪ বছর বয়সী এক প্রত্যক্ষদর্শীর সন্ধান পান। তিনি জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বজ্রঝড়ের মধ্যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং তার বাবা, যিনি তখন গ্রামের প্রধান ছিলেন, পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে ঘটনাস্থলের কাছেই সমাহিত করেন। পরবর্তী সময়ে সেই বনাঞ্চল পরিষ্কার করে ধানক্ষেতে রূপান্তর করা হয়।
২০২২ সাল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিখোঁজ সদস্যদের অনুসন্ধানকারী সংস্থা ওই এলাকায় বিস্তারিত খননকাজ শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উদ্ধার হওয়া হাড়ের টুকরো এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে ডিএনএ বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয় যে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ ফ্র্যাঙ্কলিন ম্যাককিনির। পরে ব্যাংককে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার দেহাবশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ সদস্যদের খুঁজে ফিরিয়ে আনার মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পূর্ণতা পেল।
কসমিক ডেস্ক