সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে যেকোনো দলের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হতে পারে মূল খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা। England national football team-এর জন্য ঠিক তেমনই একটি শঙ্কার নাম ছিল Jude Bellingham। কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা ছিল এই তরুণ মিডফিল্ডারের।
তবে সব শঙ্কা দূর করে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বেলিংহ্যাম। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেকে রেখেছেন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। পুরো ম্যাচে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় ফাউল বা উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ না করে হলুদ কার্ড এড়াতে সক্ষম হন তিনি।
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার মা—ডেনিস বেলিংহ্যাম। ম্যাচ শেষে নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন Jude Bellingham। তিনি জানান, পুরো সপ্তাহজুড়ে তার মা তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছেন। কিভাবে মাঠে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, কীভাবে প্রতিপক্ষের সঙ্গে আচরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বেলিংহ্যামের ভাষায়, তার মা তাকে শুধু খেলার দিক থেকে নয়, আচরণগত দিক থেকেও সচেতন করেছেন। বিশেষ করে হলুদ কার্ড এড়ানোর বিষয়টি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত কাজে এসেছে। এই মানসিক প্রস্তুতিই তাকে ম্যাচে ঠান্ডা মাথায় খেলতে সাহায্য করেছে।
মায়ের পাশাপাশি ম্যাচ রেফারির ভূমিকাও উল্লেখ করেছেন বেলিংহ্যাম। তার মতে, একজন খেলোয়াড় যদি সঠিকভাবে খেলে এবং রেফারি যদি যোগাযোগের সুযোগ দেন, তাহলে খেলা আরও সহজ হয়ে যায়। এই ম্যাচে রেফারি সেই সুযোগ দিয়েছেন বলেই তিনি নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছেন।
ম্যাচে তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন সতীর্থরাও। Harry Kane বলেছেন, দলের জয়ে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন বেলিংহ্যাম। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করা তার দুটি গোলই ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলেছে। অন্যদিকে সতীর্থ Elliot Anderson তার উপস্থিত বুদ্ধি ও পজিশনিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, বেলিংহ্যাম সবসময় ঠিক জায়গায় উপস্থিত থাকতে পারেন—যা একজন শীর্ষ খেলোয়াড়ের বড় গুণ।
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের মাধ্যমে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে England national football team। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ—বর্তমান চ্যাম্পিয়ন Argentina national football team-এর বিপক্ষে লড়াই।
এই ম্যাচে বেলিংহ্যামের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ তার মতো একজন মিডফিল্ডারই ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সময়ে আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শুধুমাত্র প্রতিভা নয়—শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা এবং সঠিক পরামর্শ একজন খেলোয়াড়কে বড় মঞ্চে সফল হতে সাহায্য করে। বেলিংহ্যামের ক্ষেত্রে তার মায়ের পরামর্শই হয়ে উঠেছে সেই গোপন ‘অস্ত্র’, যা তাকে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
এখন দেখার বিষয়, সেমিফাইনালে Argentina national football team-এর বিপক্ষেও তিনি একইভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে দলকে ফাইনালে তুলতে পারেন কি না।
কসমিক ডেস্ক