তীব্র শীতে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল, রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল, রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল, রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু ছবির ক্যাপশন:
ad728

রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীতের প্রকোপে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা এবং দিনের পর দিন সূর্যের দেখা না মেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। গত দুই সপ্তাহে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে সাতজন বয়স্ক এবং নয়জন শিশু। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, কোল্ড ডায়রিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

টানা কয়েক দিন ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এর মধ্যে চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মঙ্গলবার। রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমের সর্বনিম্ন। চুয়াডাঙ্গায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা আজও অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, ঢাকাসহ দেশের অনেক জায়গায় কুয়াশা কিছুটা কেটে গিয়ে রোদের দেখা মিলেছে। এতে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। এই প্রবণতা আজ ও আগামীকাল থাকতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে আবার তাপমাত্রা কমে শীত বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও সতর্ক করেছে, আজ ও আগামীকাল মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলার খবর

রংপুর : শীতজনিত রোগে রমেকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। হাসপাতালে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

রাজশাহী : মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত।

চুয়াডাঙ্গা : তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। কনকনে ঠাণ্ডায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে।

গাইবান্ধা : টানা কুয়াশা ও ঠাণ্ডায় বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সূর্যের আলো না পাওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায়।

রাজবাড়ী : হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। আউটডোরেও ভিড় লক্ষণীয়।

সাতক্ষীরা : উত্তরের হিমেল হাওয়ায় উপকূলীয় জনপদেও তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।

শীতার্তদের পাশে বিজিবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিজিবির উদ্যোগে শত শত শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। কুড়িগ্রামেও পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দিয়েছে বিজিবি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীতের এই তীব্রতা অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন