প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে কুমিল্লার ৮৯৪ প্রাথমিক বিদ্যালয় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে কুমিল্লার ৮৯৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 3, 2026 ইং
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে কুমিল্লার ৮৯৪ প্রাথমিক বিদ্যালয় ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লা জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ২ হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৯৪টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৯৭০টি পদও শূন্য রয়েছে। ফলে পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার সামগ্রিক মান ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত ২ হাজার ১০৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ২১৩ জন। অন্যদিকে, ১৩ হাজার ৩৮৯টি সহকারী শিক্ষকের পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১২ হাজার ৪১৯ জন, ফলে ৯৭০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

এই সংকটের বাস্তব চিত্র দেখা যায় কুমিল্লা সদর উপজেলার উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে গত ১০ বছর ধরে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়টিতে ২২৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রশাসনিক ও পাঠদানের দ্বৈত দায়িত্ব শিক্ষার গুণগত মানে প্রভাব ফেলছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। দেবিদ্বারে প্রধান শিক্ষকের ৯৩টি ও সহকারী শিক্ষকের ১২৪টি, মুরাদনগরে ৯৪টি ও ৯৩টি, নাঙ্গলকোটে ৯৫টি ও ৭৭টি এবং দাউদকান্দিতে ৬০টি ও ৯২টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রায় সব উপজেলাতেই শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলমান।

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এতে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তদারকি, প্রশাসনিক প্রতিবেদন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক সহায়তার জন্য হেড ক্লার্ক নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন।

তবে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের সমস্যা শুধু কুমিল্লার নয়, সারা দেশেই রয়েছে। ২০১৯ সালের পর থেকে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এতে শিক্ষাকার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন না।

অন্যদিকে, শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক স্তরেই শিক্ষার ভিত্তি গড়ে ওঠে। তাই দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এমনকি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বলাতেই সিলেট ডিসি প্রত্যাহার

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বলাতেই সিলেট ডিসি প্রত্যাহার