জামায়াত-এনসিপি জোটের ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনি হলফনামায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। পেশায় নিজেকে মার্কেটিং কনসালটেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা নাসীরুদ্দীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা হলফনামা যাচাই-বাছাই শেষে নাসীরুদ্দীনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামা অনুযায়ী, তার নামে কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা ভবনের মতো স্থাবর সম্পদ নেই। তার ঘোষিত সম্পদের বড় অংশই অস্থাবর সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, নাসীরুদ্দীনের কাছে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকে তার নামে মোট প্রায় ১৮ হাজার টাকা জমা রয়েছে। তার ঘোষিত সম্পদের তালিকায় রয়েছে আরও ১০ লাখ টাকার স্বর্ণ, ৪০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র।
তবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে নাসীরুদ্দীনের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২৬ লাখ ৩০ হাজার ৩০০ টাকা। হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণে পার্থক্য থাকলেও উভয় নথিতে সম্পদের উৎস উল্লেখ করা হয়েছে বৈধ আয়ের মাধ্যম হিসেবে।
হলফনামা অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীনের স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ১২ লাখ টাকার স্বর্ণ, নগদ ৫ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা ছয় লাখ ১৯ হাজার টাকার বেশি অর্থ।
ব্যক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমানে ঢাকার উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরে বসবাস করছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলা। হলফনামায় তার বার্ষিক মোট আয় দেখানো হয়েছে চার লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩ টাকা। এর মধ্যে কনসালটেন্সি কাজ থেকে আয় দুই লাখ দুই হাজার টাকা এবং চাকরি থেকে আয় দুই লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৩ টাকা।
আইনি অবস্থান সম্পর্কে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তবে ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছিল—একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং অন্যটি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন মাসে তিনি উভয় মামলায় আদালত থেকে খালাস পান।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের সম্পদ ও আয়ের এই তথ্য জনস্বার্থে প্রকাশ করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক