ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৪১৭ জন প্রার্থী। টানা ৯ দিনের আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের মনোনয়ন বৈধ প্রার্থীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ২৫৩ জন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) আপিল শুনানির শেষ দিনে এই তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন। শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতেই কমিশন কিছু বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর সংক্রান্ত শর্তে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
সিইসি বলেন, “আপনারা হয়তো অনেকেই আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টা আমরা কীভাবে ছাড় দিয়েছি, আপনারা দেখেছেন। বিকজ উই ওয়ান্ট দি ইলেকশন টু বি পার্টিসিপেটেড। আমরা চাই যে সবার অংশগ্রহণে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক। আপনারা সহযোগিতা না করলে কিন্তু হবে না।”
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ত্রুটি ও শর্ত পূরণ না হওয়ায় ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এতে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রাথমিকভাবে বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৪২ জন।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৪৫ জন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। এসব আপিলের শুনানি শুরু হয় ১০ জানুয়ারি এবং টানা ৯ দিন ধরে চলার পর রোববার তা শেষ হয়। শুনানি শেষে কমিশন ৪১৭ জন আপিলকারীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। ফলে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশ পুনরায় নির্বাচনের মাঠে ফেরার সুযোগ পেলেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে নির্বাচনের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক