চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১৭ জুন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর গভর্নিং বোর্ডেও প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বাণিজ্য, শিল্প, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) ১০টি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন দেশের ফ্রি ট্রেড জোন মডেল বিশ্লেষণ করে এই সুপারিশ দেয়। কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কৌশলগত অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক সুবিধার কারণে আনোয়ারাকে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেজা মনে করছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং রপ্তানি খাতে নতুন বৈচিত্র্য তৈরি হবে। পাশাপাশি হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
এই জোন চালু হলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করতে পারবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ইতিমধ্যে কাস্টমস আইন, আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকাসহ বিভিন্ন নীতিমালা হালনাগাদের কাজ শুরু হয়েছে।
বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এখন ফ্রি ট্রেড জোন মডেলে যাওয়ার উপযুক্ত সময়ের মধ্যে রয়েছে। চীন, দুবাই ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এই মডেল ব্যবহার করে সফল হয়েছে এবং বাংলাদেশও সেই পথে এগোচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে বাজেট ও নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও আইনগত সংস্কার প্রয়োজন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফ্রি ট্রেড জোন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় রূপান্তর ঘটাতে পারে।
কসমিক ডেস্ক