মৌসুমের শুরুতেই চালের বাজারে মিলার সিন্ডিকেটের থাবা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মৌসুমের শুরুতেই চালের বাজারে মিলার সিন্ডিকেটের থাবা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
মৌসুমের শুরুতেই চালের বাজারে মিলার সিন্ডিকেটের থাবা ছবির ক্যাপশন:
ad728

আউশ-আমন মৌসুমের শুরুতেই চালের বাজারে মিলার সিন্ডিকেটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাজারে নতুন চাল আসতে শুরু করলেও সংকটের অজুহাত দেখিয়ে মিল পর্যায়ে সরু চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

মিল পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় ভালো মানের মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা। মাঝারি মানের মিনিকেট একই সময়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগে ছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ মিল পর্যায়ে মিনিকেট চালের বস্তাপ্রতি সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এ ছাড়া ২৫ কেজি ওজনের নাজিরশাল চালের বস্তা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১ হাজার ৮৫০ টাকা।

মিল পর্যায়ে দাম বাড়ার প্রভাব রাজধানীর পাইকারি বাজারেও পড়েছে। কাওরান বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানান, ভালো মানের মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৩ হাজার ৭০০ টাকা। মাঝারি মানের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৩ হাজার ৩০০ টাকা। একইভাবে ২৫ কেজির নাজিরশাল চালের বস্তা বিক্রি করতে হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়, যা আগে ছিল ১ হাজার ৯০০ টাকা।

এর প্রভাব খুচরা বাজারে আরও স্পষ্ট। রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও জিনজিরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ টাকা। রশিদ মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭৬ টাকায়, আগে যা ছিল ৭০ থেকে ৭২ টাকা। ভালো মানের নাজিরশাল চালের দাম কেজিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মিলাররা মৌসুমের শুরুতেই সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াচ্ছে। মালিবাগ কাঁচাবাজারের এক চাল বিক্রেতার মতে, নতুন চাল ইতোমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সরবরাহ আরও বাড়বে। এই সময়ে দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে মিল মালিকদের দাবি, মৌসুমের শুরুতে ধানের জোগান তুলনামূলক কম থাকায় সাময়িকভাবে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে ধানের সরবরাহ বাড়লে চালের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশাবাদী।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই সময়ে চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারা বলছেন, মিল পর্যায়ে যথাযথ তদারকির অভাবেই চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা গেলে মিলারদের এমন আচরণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালের দাম বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনবল সংকটের কারণে একযোগে সব পর্যায়ে অভিযান চালানো কঠিন হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

সব মিলিয়ে, নতুন মৌসুমের শুরুতেই মিল পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির ফলে চালের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর তদারকির দাবি জানাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শীতে শিশুর সুরক্ষা | ছোট্ট সোনামণিকে সুস্থ রাখতে খেয়াল রাখুন

শীতে শিশুর সুরক্ষা | ছোট্ট সোনামণিকে সুস্থ রাখতে খেয়াল রাখুন