ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন, চূড়ান্তের আগে নতুন কমিটি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন, চূড়ান্তের আগে নতুন কমিটি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 5, 2026 ইং
ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন, চূড়ান্তের আগে নতুন কমিটি ছবির ক্যাপশন:
ad728

দেশের তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলেও প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়ায় একাধিক অসংগতি উঠে এসেছে। এসব অসংগতির কারণে খসড়াটি পুনর্বিবেচনায় ১০ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত করতে গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। আলোচনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা খসড়াটিতে নীতিগত ও আইনগত নানা অসংগতির কথা তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাঈদ কুতুবকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে খসড়াটি পর্যালোচনা করে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), পিকেএসএফ, ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ), আইডিএফ ও পিএমকের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে আসছিল। তবে বিষয়টি নতুন গতি পায় চলতি বছরের ১৭ মে, যখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগারগাঁওয়ে এমআরএর নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ওই বক্তব্যের পরপরই তুলনামূলক দ্রুততার সঙ্গে অধ্যাদেশের খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্যোগে এমআরএর সহায়তায় খসড়াটি প্রস্তুত করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এতে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন করেনি। গত ২৬ নভেম্বর খসড়াটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সাত দিনের মধ্যে অংশীজনদের মতামত চাওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, প্রস্তাবিত খসড়াটি বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খসড়ায় বলা হয়েছে, এমআরএর আওতায় একটি পৃথক দপ্তর গঠন করে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে এবং সেই দপ্তরই পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ‘ব্যাংক’ শব্দ ব্যবহার করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন।

এ ছাড়া এমআরএর পক্ষে ব্যাংক খাতের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় বৈঠকে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকটি বিদ্যমান এনজিও, গ্রামীণ ব্যাংক ও পিকেএসএফের কার্যক্রম থেকে কীভাবে আলাদা হবে, সে বিষয়েও খসড়ায় স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

আরেকটি বড় অসংগতি হিসেবে উঠে এসেছে—প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক সরকারি না বেসরকারি হবে, তা খসড়ায় উল্লেখ নেই। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, তাড়াহুড়ো করে খসড়া প্রস্তুত করায় এতে নীতিগত দুর্বলতা রয়ে গেছে। সে কারণেই অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করার আগে আরও গভীর ও বিশদ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ক্যানসারের কাছে হার মানলেন বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি ইলিয়াস জা

ক্যানসারের কাছে হার মানলেন বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি ইলিয়াস জা