তেলের দাম, ডলার ও মূল্যস্ফীতি—অর্থনীতিতে বাড়ছে শঙ্কা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তেলের দাম, ডলার ও মূল্যস্ফীতি—অর্থনীতিতে বাড়ছে শঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 13, 2026 ইং
তেলের দাম, ডলার ও মূল্যস্ফীতি—অর্থনীতিতে বাড়ছে শঙ্কা ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি একাধিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

Iran, United States এবং Israel-এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সমস্যা, প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার মতো নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহে বিঘ্ন, রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা।

উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

এই প্রেক্ষাপটে Dhaka Chamber of Commerce and Industry (ডিসিসিআই) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটির মতে, চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় সেখানে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে প্রতি ব্যারেল ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

ডিসিসিআই বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকলে বাংলাদেশের বহিঃখাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

ফলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়বে এবং বাণিজ্য ঘাটতি সম্প্রসারিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এ ছাড়া Strait of Hormuz কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ফ্রেইট চার্জ, বিমা প্রিমিয়াম এবং পণ্য পরিবহনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাত, যেমন তৈরি পোশাক শিল্প, এই পরিস্থিতিতে বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় এবং সরবরাহ চেইন বিঘ্নের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক Ainul Islam বলেন, জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিলে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে ব্যয় বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লে পণ্যের দামও বাড়বে এবং এতে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

তার মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়লে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যও চাপে পড়তে পারে।

তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তি বা বিকল্প জ্বালানি উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মীর দলবদল

বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মীর দলবদল