এইচপিভি টিকায় ইংল্যান্ডে জরায়ুমুখের ক্যানসারে মৃত্যু প্রায় শূন্যে, গবেষণায় বড় সাফল্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এইচপিভি টিকায় ইংল্যান্ডে জরায়ুমুখের ক্যানসারে মৃত্যু প্রায় শূন্যে, গবেষণায় বড় সাফল্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 18, 2026 ইং
এইচপিভি টিকায় ইংল্যান্ডে জরায়ুমুখের ক্যানসারে মৃত্যু প্রায় শূন্যে, গবেষণায় বড় সাফল্য ছবির ক্যাপশন:

ইংল্যান্ডে জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে ব্যবহৃত এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) টিকাদান কর্মসূচি একটি বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, এই টিকার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন নারীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০০৮ সালে ইংল্যান্ডে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের জন্য এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে জরায়ুমুখের ক্যানসারে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করে। গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এই রোগে কোনো মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

গবেষকদের মতে, যদি এই টিকাদান কর্মসূচি চালু না হতো, তাহলে একই সময়ে অন্তত ২৩ জন তরুণীর মৃত্যু হতে পারত। এই হিসাব থেকেই বোঝা যায়, টিকা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। গবেষণার প্রধান গবেষক লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিটার সাসিয়েনি বলেন, একটি মাত্র টিকার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ক্যানসারকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব—এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা ১২ বা ১৩ বছর বয়সে এইচপিভি টিকা নিয়েছিল, তাদের ৩০ বছর বয়সের আগেই জরায়ুমুখের ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে। টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগে এই বয়সী নারীদের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটত।

তবে এই অগ্রগতির পরও জরায়ুমুখের ক্যানসার ইংল্যান্ডে নারীদের মধ্যে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। দেশটিতে এটি ১৪তম সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যানসার। প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার ৩০০ নারী নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই এইচপিভি ভাইরাস দায়ী, যা সাধারণত ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও বেশিরভাগ এইচপিভি সংক্রমণ নিজে থেকেই সেরে যায়, কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটায়, যা পরবর্তীতে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। তাই টিকা এই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

ক্যানসার রিসার্চ ইউকে এই গবেষণার ফলাফলকে একটি “অবিশ্বাস্য মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল বলেন, এই গবেষণা প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে এইচপিভি টিকা সরাসরি জীবন বাঁচাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইংল্যান্ডে টিকা গ্রহণের হার এখনও প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের নিচে রয়েছে, যা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

বর্তমানে ইংল্যান্ডে ১৫ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশ এইচপিভি টিকা গ্রহণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জরায়ুমুখের ক্যানসার কার্যকরভাবে নির্মূল করতে হলে এই হার অন্তত ৯০ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত জরায়ুমুখ পরীক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ড সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসারকে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছে। পাশাপাশি ছেলেদেরও এইচপিভি টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভাইরাস সংক্রমণ আরও কমাতে সাহায্য করবে।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, টিকাদান কর্মসূচি যত বিস্তৃত হবে এবং গ্রহণের হার যত বাড়বে, ভবিষ্যতে জরায়ুমুখের ক্যানসারে মৃত্যু ততই কমে যাবে—এমনকি একে কার্যত নির্মূল করার সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ইতিহাস: ২০১৮ সালের নির্বাচন কীভাবে হলো

প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ইতিহাস: ২০১৮ সালের নির্বাচন কীভাবে হলো