স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ভোটের লড়াই, বাড়ছে এআই আতঙ্ক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ভোটের লড়াই, বাড়ছে এআই আতঙ্ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 24, 2026 ইং
স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ভোটের লড়াই, বাড়ছে এআই আতঙ্ক ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক নতুন ও নজিরবিহীন বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রথাগত পোস্টার ও দেয়াললিখন নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের নির্বাচনে প্রচারের প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ভোটারদের মন জয় করার লড়াই এখন জনসভা বা বিলবোর্ডের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি পৌঁছে গেছে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারের আড়ালেই তৈরি হয়েছে এক নতুন আতঙ্ক—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি যেমন নির্বাচনী প্রচারে গতি ও নতুনত্ব এনেছে, তেমনি এটি তৈরি করেছে ভয়াবহ ঝুঁকি। সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে ‘ডিপফেক’ ভিডিও। রাজনৈতিক নেতাদের কণ্ঠস্বর ও অবয়ব নকল করে এমন সব ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, যেখানে তারা কখনো না বলা বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। এআই দিয়ে তৈরি সংবাদ উপস্থাপকের আদলে ভিডিও বানিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সাধারণ ভোটারদের কাছে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে একপাক্ষিক বা উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভোটারদের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায়, যেখানে ডিজিটাল লিটারেসি তুলনামূলক কম, সেখানে এসব অপতথ্যের প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সাইবার স্পেসে অপপ্রচারের তীব্রতাও বাড়ছে। ফেসবুক, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপ এখন তথ্যের প্রধান উৎসে পরিণত হলেও তথ্য যাচাইয়ের দুর্বলতা এসব প্ল্যাটফর্মকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। একটি বানোয়াট ভিডিও বা ভুয়া তথ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।

এই পরিস্থিতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশনও। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন সম্প্রতি বলেন, এআই এখন আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এটি মোকাবিলা করাই হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ।

অপতথ্য মোকাবিলায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ) ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে।

তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ভুয়া তথ্যের ৬৬ শতাংশই ছিল ভিডিওভিত্তিক। রিউমর স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই তিন মাসে ১ হাজার ৪৪১টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার বড় অংশই রাজনৈতিক এবং বেশিরভাগই ভিডিওভিত্তিক।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, নির্বাচন ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শতাধিক পেজ ও গ্রুপ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা মনে করেন, বাংলাদেশে এআই চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে প্রকট। তার মতে, অপপ্রচার ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি খুবই সীমিত। যদিও বিটিআরসি মেটাসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভুয়া কনটেন্ট সরানো বা রিচ কমানোর আশ্বাস পেয়েছে, তবে এটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি বলা যায় না।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির এই অদৃশ্য আগ্রাসন মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, ভোটারদেরও সচেতন হতে হবে। নচেৎ প্রযুক্তির অপব্যবহার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গণভোটে হ্যাঁ-ভোট প্রচার: নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে কি সরকার?

গণভোটে হ্যাঁ-ভোট প্রচার: নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে কি সরকার?