চট্টগ্রামের পটিয়ার শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা দিয়েই টানা তিন বছর ধরে বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে তারা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি দেখালেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেননি বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে একই পরিস্থিতি বহাল রয়েছে।
এদিকে নতুন করে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বিদ্যালয়ের চলমান ক্লাস রুটিনে প্রধান শিক্ষক জনাবা দিলুয়ারা বেগমের নামে কোনো শ্রেণির ক্লাস বরাদ্দ নেই। অথচ বিদ্যালয়ের ২৫ জন সহকারী শিক্ষকের প্রত্যেকের জন্য নিয়মিত ক্লাস রুটিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রধান শিক্ষকের পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের একটি অংশ দীর্ঘদিন পাঠদান না করলেও সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ভুক্তভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশনার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের নামে কোনো ক্লাস না থাকা এবং একই সঙ্গে একাধিক শিক্ষক দীর্ঘদিন পাঠদান না করেও বেতন গ্রহণের অভিযোগ—দুটিই গভীর তদন্তের দাবি রাখে। শিক্ষা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।