গাজা উপত্যকার উদ্দেশ্যে মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’-কে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করেছে ইসরায়েল। এ সময় ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া দুই কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera।
আটক দুই কর্মী হলেন স্পেনের নাগরিক সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলের থিয়াগো অ্যাভিলা। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানান্তর করা হবে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, আটক ব্যক্তিরা একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, যাকে তারা হামাস-সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করছে। তবে এই অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত এবং এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনী এর আগে জানিয়েছিল, ফ্লোটিলার ৫৮টি জাহাজের মধ্যে অন্তত ২১টি জব্দ করা হয়েছে। তারা আরও সতর্ক করে দেয় যে বাকি জাহাজগুলো যদি গন্তব্য পরিবর্তন না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নৌবহরটি মূলত গাজা উপত্যকার জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানায় আয়োজকরা। তাদের দাবি, এটি ছিল একটি শান্তিপূর্ণ মিশন, যার উদ্দেশ্য ছিল অবরুদ্ধ অঞ্চলে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।
ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলি অভিযানে অন্তত ৩১ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন, যেমন নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের অভিযানের বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই এটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা নিরাপত্তার কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং গাজার দিকে যেকোনো অননুমোদিত নৌযান চলাচল প্রতিহত করা তাদের অধিকার।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে এবং ঘটনার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।
এদিকে কিছু সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাধিক দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়ে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন মহলও এই ঘটনাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছে। তারা একে সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন এবং মানবিক সহায়তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সব মিলিয়ে, গাজামুখী এই নৌবহর আটককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মানবিক সহায়তা, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন—এই তিনটি বিষয় এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
কসমিক ডেস্ক