কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় আট মাস পর কৃষকদল নেতা মো. সাদ্দাম হোসেন (৩২) মারা গেছেন। শনিবার (২ মে) রাত আড়াইটার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী গ্রামের নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সাদ্দাম হোসেন একই গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবরের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল-এর নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং নারান্দী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিজ বাড়ির উঠানে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন সাদ্দাম হোসেন। ওই দিন ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পরপরই তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী গোলাপ মিয়া, আজিজুল ও মানিকসহ কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। এ সময় আজিজুল হকিস্টিক দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে অন্য হামলাকারীরা দা ও লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
হামলার সময় বাড়ির উঠানে চিৎকার শুনে তার স্ত্রী ও স্বজনরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এই ঘটনায় ২৬ সেপ্টেম্বর সাদ্দামের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানা-য় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর এতদিন পার হলেও মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. শামসুল হক মিঠু জানান, দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে সাদ্দাম হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।”
এদিকে এসএম আরিফুর রহমান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জানান যে ঘটনাটি নিয়ে থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছিল এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদালত যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হামলার সূত্রপাত। দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নেয়।
সব মিলিয়ে, একটি পুরোনো হামলার ঘটনায় আহত একজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের প্রধান দাবি—ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
কসমিক ডেস্ক