বিতর্কিত নথির অভিযোগে বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিতর্কিত নথির অভিযোগে বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 30, 2026 ইং
বিতর্কিত নথির অভিযোগে বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এক প্রবাসী সাবেক কর্মীকে চাকরি-সংক্রান্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কিছু নথি ব্যবহার করে ওই কর্মীর পাওনা সুবিধা আটকে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে Poeticgem International Limited, যা হংকংভিত্তিক PDS Limited-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটিও ওই সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে, ফলে বিষয়টি এখন দ্বিমুখী আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

কোম্পানির পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক ওই কর্মী একটি ভুয়া ই-মেইল ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোম্পানির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন এবং গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। এতে কোম্পানির উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ম্যানেজার (এইচআরবিপি) বদরুজ্জামান সুমন।

তবে প্রবাসী কর্মীর পক্ষ থেকে ভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দাবি, একটি বিতর্কিত পদত্যাগপত্রের ভিত্তিতে তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয় এবং পরে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। এই পরিস্থিতিতে তিনি পাল্টা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যার মধ্যে মানহানি ও জালিয়াতির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব মামলা বর্তমানে ঢাকার মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে ব্যয় সংকোচনের কথা উল্লেখ করে কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরে জমা দেওয়া নথিতে সেই চাকরিচ্যুতিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে করে তার প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া আদালতে দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মী যখন বাংলাদেশের বাইরে ছিলেন, তখন তার নামে ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত একটি পদত্যাগপত্র তৈরি করা হয়। কর্মীর দাবি, তিনি ওই সময় ভারতে অবস্থান করছিলেন এবং এ বিষয়ে পাসপোর্ট ও অভিবাসন সংক্রান্ত নথিও উপস্থাপন করা হয়েছে।

নথিভুক্ত সময়রেখা অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ জুলাই একটি অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে তাকে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানানো হয়। পরে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রবাসী কর্মীর দাবি করা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা তার দীর্ঘ ১৩ বছরের চাকরি, বকেয়া বেতন, ইএসওপি সুবিধা এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক পাওনার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল প্রবাসী কর্মী দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন—একটি শ্রম আদালতে এবং অন্যটি সিএমএম আদালতে। শ্রম আদালতে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী তিনি একজন ‘শ্রমিক’ হিসেবে বিবেচিত এবং সে অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি ও ক্ষতিপূরণের অধিকারী।

অন্যদিকে সিএমএম আদালত অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, বিতর্কিত নথি ব্যবহার, চাকরিচ্যুতি ও আর্থিক দাবিকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা নেই: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা নেই: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী