বরগুনার বেতাগী পৌর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেতাগী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যায়নি। এতে করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ পথচারীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বেতাগী পৌর শহরের বাজারে প্রবেশপথে একটি সেতু রয়েছে। সেই সেতুর ঢাল বরাবর প্রধান সড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টি। অপরদিকে সড়কের উত্তর পাশে রয়েছে জেলা পরিষদের ডাক বাংলো। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে থাকে এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধ্রুব অর্ক মণ্ডল ও ধ্রুব গাইন জানায়, বৃষ্টির দিনে তাদের জুতা ও পোশাক ভিজে যায়। অনেক সময় কাদাপানির মধ্য দিয়ে হেঁটে ক্লাসে যেতে হয়, যা শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ধ্রুব গাইনের বাবা সুশান্ত কুমার গাইন বলেন, বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওপর পানি জমে যায়, ফলে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ে। নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তিত।
এলাকার ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। বিদ্যালয়ের সামনে টায়ার ও গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রেতা মো. কামাল হোসেন বলেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সড়কের পাশে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় সমস্যার সমাধানও হচ্ছে না।
তিনি দ্রুত একটি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সড়কটি উঁচু করার দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা না হয়।
এ বিষয়ে বেতাগী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সমস্যাটি তাদের নজরে রয়েছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনও জানান, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অতি শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটাতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
কসমিক ডেস্ক