অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায়ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও অন্তত পাঁচ দিন পর্যন্ত চলতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে—১৬১ মিলিমিটার। ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এই ভারি বৃষ্টির কারণে দেশের চারটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো ভুগাই-কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু ছাড়া বাকি তিনটি নদী নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। গত কয়েক ঘণ্টায় এসব নদীর পানি ১ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট নদীগুলোর ক্ষেত্রে অল্প সময়ের ভারি বৃষ্টিতেই দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায় এবং বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর গত মঙ্গলবারই ৯৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানিয়েছিল যে দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ীই বর্তমানে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও সকাল থেকে বৃষ্টিপাত চলছে, যা জনজীবনে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে এই ধরনের অতিভারি বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি এখন নিয়মিত হয়ে উঠছে। ফলে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় শুরু হওয়া বন্যা পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে আশপাশের আরও কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।a
কসমিক ডেস্ক