রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল নেওয়ার দীর্ঘ লাইনের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। আগে যেখানে তেলের জন্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে এখন অল্প সময়েই তেল পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে লম্বা লাইন তৈরি হয়। তবে মঙ্গলবার (আজ) রাজধানীর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
খিলক্ষেত, বিমানবন্দর এলাকা, রামপুরা, বাড্ডা, মতিঝিল, শহীদবাগ, আরামবাগ এবং মৎস্য ভবন এলাকার পাম্পগুলোতে তেমন কোনো ভিড় ছিল না। কোথাও ২ থেকে ৫টি, আবার কোথাও ৮ থেকে ১০টি যানবাহন মাত্র লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, আগে যেখানে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি থাকত, সেখানে এখন কয়েকটি গাড়ি দ্রুতই তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগেও একই স্থানে সকালের দিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো গ্রাহকদের।
ফিলিং স্টেশন কর্মীদের মতে, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। নীলক্ষেত ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মোজাম্মেল হক বলেন, “এখন পাম্পে কোনো ভিড় নেই। মানুষকে দ্রুত সেবা দিতে পারছি। আগের মতো চাপ আর নেই।”
গ্রাহকরাও জানিয়েছেন স্বস্তির কথা। তারা বলছেন, আগে জ্বালানি নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু এখন অল্প সময়েই তেল পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং আতঙ্ক কমে যাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর নিয়মিত সরবরাহ ব্যবস্থাপনাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকলে ভবিষ্যতে আবারও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা ধরে রাখা জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীর সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘ লাইনের দুর্ভোগ কমে যাওয়ায় দৈনন্দিন চলাচলও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ এখন তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে, যা নগরবাসীর জন্য স্বস্তির খবর।a
কসমিক ডেস্ক