চীনের পূর্বাঞ্চলের আনহুই প্রদেশে ২৩ বছর পর জন্মদাতা মা-বাবার সঙ্গে এক তরুণীর আবেগঘন পুনর্মিলনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই, সুইডেনে বেড়ে ওঠা ২৩ বছর বয়সী লিসা প্রথমবারের মতো নিজের জৈবিক পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (SCMP)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৩ সালে হুয়াইইউয়ান কাউন্টিতে জন্ম নেওয়া লিসার চীনা নাম ছিল গাও জিয়ানছুয়ান। আর্থিক সংকটের কারণে জন্মের কিছু সময় পরই তার মা-বাবা তাকে এক ধাত্রীর কাছে তুলে দেন। কিন্তু মাত্র চার দিন পর সেই ধাত্রী নবজাতক শিশুটিকে একটি ক্রীড়া স্টেডিয়ামের কাছে ফেলে রেখে যান।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে উদ্ধার করে একটি শিশু কল্যাণকেন্দ্রে পাঠায়। জন্মগতভাবে কুঁচকির হার্নিয়ায় আক্রান্ত শিশুটির নাম রাখা হয় গাও জিয়ানছুয়ান, যার অর্থ ‘সুস্থ শরীর’। পরে এক বছর বয়সে সুইডেনের একটি দম্পতি আইনগতভাবে তাকে দত্তক নেন এবং সেখানেই তার বেড়ে ওঠা।
লিসার দত্তক মা-বাবা ছোটবেলা থেকেই তার জন্মপরিচয় সম্পর্কে খোলামেলা ছিলেন এবং নিজের জন্মদাতা পরিবারকে খুঁজে বের করার ইচ্ছাকেও সবসময় সমর্থন করেছেন। সেই ইচ্ছা থেকেই ২০২৬ সালের মার্চে তিনি চীনের অলাভজনক সংস্থা ‘বেবি কাম হোম’-এ নিবন্ধন করেন। সংস্থাটি হারিয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পেতে সহায়তা করে।
প্রায় দুই মাস পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লিসার সঙ্গে তার জন্মদাতা পরিবারের মিল পাওয়া যায়। এরপর সুইডিশ দত্তক মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আনহুই প্রদেশে যান। সেখানে তার জৈবিক পরিবার একটি ব্যানারে লিখে তাকে স্বাগত জানায়—“পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পথ হলো ঘরে ফেরার পথ।”
পুনর্মিলনের সময় লিসার জন্মদাতা মা তাকে একটি ঐতিহ্যবাহী জেডের হার এবং একটি লাল কিপাও উপহার দেন। আবেগাপ্লুত লিসা মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, “মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে দেখে আমি খুব খুশি।”
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে লিসা জানান, তিনি অতীতকে শান্তভাবে গ্রহণ করেছেন এবং কেবল নিজের শিকড় ও পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। এই মানবিক গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার দত্তক মা-বাবার উদারতা ও দুই পরিবারের ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন।
কসমিক ডেস্ক