নয়াদিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই দলের সাবেক মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়ার একটি বার্গার খাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সোমবারের বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হন। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্রকে বার্গার খেতে দেখা যাওয়ায় আন্দোলনের সময় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
সমালোচনার পর সিজেপি এক বিবৃতিতে বিজেতা দাহিয়াকে মুখপাত্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেয়। দলটির ভাষ্য, আন্দোলনের সময় তার আচরণ ছিল অসংবেদনশীল, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং দলের নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে বিজেতা দাহিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজেপির আইটি সেল ভিডিওটি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় কাজ করার পর ক্ষুধা লাগলে খাবার খাওয়ায় কোনো অন্যায় নেই। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের জন্য টানা ১২ ঘণ্টা কাজ করেছেন, দুই রাত ঘুমাননি এবং বিক্ষোভ সফল করতে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছেন। তাই একটি খাবার খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা অযৌক্তিক।
দাহিয়ার দাবি, সংসদের দিকে পদযাত্রা শেষ হওয়ার পর তিনি সাময়িকভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে যান এবং পরে আবার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সবাই তার অবদান সম্পর্কে অবগত।
পদচ্যুত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি আপত্তি জানাননি। তার ভাষায়, যদি তার পদত্যাগ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে, তবে সেটিই বড় বিষয়। ব্যক্তি নয়, আন্দোলনের লক্ষ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে আন্দোলনের সময় নেতৃত্বের অনুপস্থিতির সমালোচনার জবাবে দাহিয়া জানান, দলের অন্য দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সে সময় সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বিক্ষোভের সময়সূচি নিয়েও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কসমিক ডেস্ক