পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও মাধবখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু)-এর বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া, মালামাল লুটপাট এবং পরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে কাঠালতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় অবস্থান করায় বাড়িটি তখন তালাবদ্ধ ছিল। ফলে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কাজী মিজানুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান। তার অসুস্থ মা বাড়িতে একা থাকলেও ঘটনার দিন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে রাতে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে বাড়ির সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পরে মালামাল লুট করে ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা ও তাদের অনুসারীদের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি এ হামলায় অংশ নেন। তার দাবি, বাড়ি থেকে রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ছয় কক্ষের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার আগে আশপাশের মানুষকে এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয় এবং কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির অদূরে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও হামলাকারীদের কারণে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী বলেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি পাবলিক লাইব্রেরির জন্য নিবন্ধিত জমির ওপর নির্মিত হয়েছে। একই ধরনের দাবি করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারও।
পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হলেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী বলেন, দলীয়ভাবে এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধ করে থাকলে তার দায় দল নেবে না।
এদিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা হলেও কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
কসমিক ডেস্ক