প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সকাল ১০টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৭ ও ১৮ নম্বর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিশুদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, মননশীলতা ও বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এসব প্রতিযোগিতা উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন ধাপে সেরা হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের হাতে অনুষ্ঠানে তুলে দেওয়া হবে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও সম্মাননা জানানো হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে ১৫টি ক্যাটাগরিতে দেশের ১২ হাজার ৩৮৪ জন এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটি ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার ৫৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন সফল উদ্যোগ, উদ্ভাবনী কার্যক্রম এবং উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হবে। বিভিন্ন জেলার স্টলে স্কুল ফিডিং, আনন্দময় শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা, ফাউন্ডেশনাল লার্নিংসহ প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে, যাতে দর্শনার্থী ও সংশ্লিষ্টরা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এই পদক ও সম্মাননা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উৎসাহ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক