ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। গত ২৪ জুন আঘাত হানা শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। ভূমিকম্পের এক সপ্তাহের বেশি সময় পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য চলছে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম।
ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৭ হাজার ৮৫৪ জন মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের বড় একটি অংশ এখন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রাজধানী কারাকাস এবং আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরায়। সেখানে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ চললেও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত মানুষের চাপ, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, চর্মরোগ, ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস ও পোলিওর মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন সামরিক ইউনিট গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তবে সরকারের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় কার্যক্রম অপর্যাপ্ত।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরায় এখনো উদ্ধার অভিযান ও মরদেহ ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে। বিপুল সংখ্যক নিহতের কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (PAHO) মরদেহ সংরক্ষণ সামগ্রী, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা বাড়াচ্ছে। উদ্ধারকারী দল, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকরা এখনো মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প-পরবর্তী এই সংকট মোকাবিলায় শুধু উদ্ধার কার্যক্রম নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনই হবে ভেনেজুয়েলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
কসমিক ডেস্ক