মাঠে একজন দাঁড়িয়ে থাকেন টাচলাইনের একদম সামনে—কখনো খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দিচ্ছেন, কখনো রেফারির সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, আবার গোল হলে উদযাপনে মেতে উঠছেন। তার পাশেই আরেকজন, যিনি নিঃশব্দে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করছেন, কৌশল বুঝিয়ে দিচ্ছেন। একজন প্রধান কোচ, অন্যজন সহকারী। তবে তাদের সম্পর্ক শুধু পেশাগত নয়—তারা যমজ ভাই, হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান।
বর্তমানে হোসাম হাসান মিশর জাতীয় দলের প্রধান কোচ এবং ইব্রাহিম হাসান সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের বিশ্বকাপে মিশরের সাফল্যের পেছনে এই দুই ভাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য।
১৯৬৬ সালের ১০ আগস্ট কায়রোর হেলওয়ান এলাকায় জন্ম তাদের। ছোটবেলায় আর্থিকভাবে খুব স্বচ্ছল না থাকলেও ফুটবলই তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তারা যোগ দেন আল আহলি এসসির একাডেমিতে। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের স্বপ্নের যাত্রা।
খেলোয়াড়ি জীবনেও তারা ছিলেন একে অপরের পরিপূরক। হোসাম ছিলেন স্ট্রাইকার, আর ইব্রাহিম ডিফেন্ডার। একসঙ্গে খেলেছেন আল আহলি, গ্রিসের পিএওকে এফসি, সুইজারল্যান্ডের নিউশাতেল জ্যামাক্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন এফসিতে।
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে মিশরের জার্সিতে পাশাপাশি খেলেছিলেন এই দুই ভাই। হোসাম হাসান ৬৮ গোল করে এখনো দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আছেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও তাদের পথ আলাদা হয়নি। বিভিন্ন ক্লাবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জর্ডান জাতীয় দলেও একসঙ্গে কাজ করেছেন তারা।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিশর জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে দলের চেহারা। তাদের কৌশল ও নেতৃত্বে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের বাধা সহজেই পেরিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নেয় দলটি।
বর্তমানে মিশর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ম্যাচে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে তারা।
দুই ভাইয়ের এই অসাধারণ সমন্বয় ও পরিশ্রমই আজ মিশর ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক