খালেদা জিয়ার জানাজায় মারা যাওয়া নিরবের পরিবারের পাশে তারেক রহমান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

খালেদা জিয়ার জানাজায় মারা যাওয়া নিরবের পরিবারের পাশে তারেক রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 1, 2026 ইং
খালেদা জিয়ার জানাজায় মারা যাওয়া নিরবের পরিবারের পাশে তারেক রহমান ছবির ক্যাপশন: মরহুম নিরব হোসেনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপির বরিশাল বিভাগের নেতারা
ad728

খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে যে মানুষটি নীরবে জীবন থেকে বিদায় নিলেন, তাঁর নাম নিরব হোসেন। নামের মতোই নীরব ছিল তাঁর প্রস্থান—কোনো ঘোষণা ছাড়াই, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই। কিন্তু সেই নীরব বিদায় রেখে গেছে গভীর শূন্যতা, কান্নাভেজা উঠোন আর অসংখ্য না বলা প্রশ্ন।

শোকের এই ভারী সময়ে মরহুম নিরব হোসেনের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দূরত্বের সীমা পেরিয়ে তাঁর সমবেদনার বার্তা পৌঁছেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার এক শোকস্তব্ধ গ্রামবাড়িতে। তাঁর নির্দেশনা ও পরামর্শে বিএনপির বরিশাল বিভাগের নেতারা ছুটে যান সেই বাড়িতে—যেখানে কান্না কথা বলে, আর নীরবতা ভারী হয়ে ঝুলে থাকে বাতাসে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান পৌঁছান মরহুম নিরব হোসেনের গ্রামের বাড়িতে। তারা পৌঁছান কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নয়, পৌঁছান শোক ভাগ করে নিতে। তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তারা পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেন গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতার বার্তা। সেই মুহূর্তে কথার চেয়ে চোখের ভাষাই ছিল বেশি শক্তিশালী।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে মরহুম নিরব হোসেনের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান পরিবারের সদস্যদের হাতে এই সহায়তা প্রদান করেন এবং বলেন, দল সব সময় পরিবারের পাশে থাকবে। কথাগুলো ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অর্থ ছিল গভীর—এই পরিবার একা নয়।

নিরব হোসেন ছিলেন জুলাই আন্দোলনে আহত তাহসিন হোসেন নাহিয়ানের বাবা। একজন বাবার হৃদয়ে তখন আগেই ছিল সন্তানের যন্ত্রণার ভার। আহত ছেলের চিকিৎসা, ভবিষ্যৎ, অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে পরিবারটি ছিল দুশ্চিন্তার মধ্যে। ঠিক সেই সময়েই তিনি গিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন যাঁকে, সেই শোকসভা থেকেই ফিরলেন না তিনি নিজেই।

জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন নিরব হোসেন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই আকস্মিক ঘটনায় শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। যিনি সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, সন্ধ্যায় ফিরে এলেন নিথর দেহ হয়ে। সেই দৃশ্য আজও চোখের সামনে ভাসছে স্বজনদের।

শোকস্তব্ধ সেই বাড়িতে কান্না থামে না। উঠোনে বসে থাকা মানুষগুলোর চোখে জল, কারও মুখে কোনো কথা নেই। প্রতিবেশীরা নীরবে এসে দাঁড়ান, কেউ কিছু বলার ভাষা খুঁজে পান না। নিরব হোসেনের চলে যাওয়া যেন শুধু একটি প্রাণহানি নয়—একটি পরিবারের ছায়া হারিয়ে যাওয়া।

বিএনপি নেতারা জানান, মরহুম নিরব হোসেনের পরিবারের পাশাপাশি জুলাই যুদ্ধাহত তাহসিন হোসেন নাহিয়ানের চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্বও দলীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তারেক রহমানের পক্ষে অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন ও আকন কুদ্দুসুর রহমান নাহিয়ানের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা তদারক করবেন। এতে অন্তত একটি আশ্বাসের আলো দেখছে পরিবারটি—এই অন্ধকারে তারা একা নয়।

এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের কণ্ঠে ছিল শোক আর বেদনার মিশ্রণ। তারা বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একজন সাধারণ মানুষের এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তবে তারা আশ্বস্ত করেন, বিএনপি পরিবার হিসেবে তারা সব সময় নিরব হোসেনের পরিবারের পাশে থাকবে।

স্থানীয়দের ভাষায়, এই মৃত্যু গোটা এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। কেউ বলেন, “ভালো মানুষ ছিল।” কেউ বলেন, “সব সময় চুপচাপ থাকত।” আবার কেউ শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “এমন মৃত্যু কারও প্রাপ্য না।” তারা মরহুম নিরব হোসেনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

একটি জানাজা, একটি শ্রদ্ধা—সেখান থেকেই শুরু হলো আরেকটি পরিবারের আজীবন শোক। নিরব হোসেনের নামের সঙ্গে আজ যুক্ত হয়েছে এক গভীর নীরবতা, যা শুধু তাঁর পরিবার নয়, বহু মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বাজতে থাকবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্বৈরশাসক মাদুরোর উত্থান-পতন: বাসচালক থেকে প্রেসিডেন্ট

স্বৈরশাসক মাদুরোর উত্থান-পতন: বাসচালক থেকে প্রেসিডেন্ট