মার্চ মাসের ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় এনবিআরের ই-ভ্যাট ইউনিট।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনস্বার্থ বিবেচনায় এবং কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মার্চ ২০২৬ মাসের ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত।
এনবিআর জানিয়েছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি এবং ই-ভ্যাট সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে কিছু ব্যবহারকারী অনলাইন রিটার্ন দাখিলে সমস্যার সম্মুখীন হন। সেই সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৬৪-এর উপ-ধারা (১ক)-এর ক্ষমতাবলে এই সময় বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করদাতারা এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে ই-ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এনবিআর করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থাপনা হিসেবে ই-ভ্যাট সিস্টেম চালু হওয়ার পর কর আদায় প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে সিস্টেম আপডেট, সার্ভার জটিলতা এবং উৎসবকালীন ছুটির কারণে সময় ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়।
এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ই-ভ্যাট ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতারা ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন, যা কর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দ্রুততর করেছে। তবে করদাতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সময় বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তগুলো নিয়মিতই নিতে হয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করদাতাদের সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে সিস্টেমের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে শেষ মুহূর্তে ভিড় বা সমস্যার কারণে করদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
এনবিআরের এই সিদ্ধান্তকে করদাতারা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে যেসব ব্যবসায়ী শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাদের জন্য এটি কিছুটা বাড়তি সময়ের সুযোগ এনে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত করদাতাদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা কর ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
কসমিক ডেস্ক