ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলটির একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় দলীয়ভাবে এক ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে ৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাকিদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে নানাভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাংগঠনিক জেলা শাখার নেতারা সংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রয়োজনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তলব করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলীয় পদে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে বহিষ্কারের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, “যারা দলের মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের বাইরে কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চান, দল অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দলীয় পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় নেতারা আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও দলের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতা হলেও দলের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থীদেরও দায়িত্ব রয়েছে—স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বোঝানো এবং ঐক্য নিশ্চিত করা।
তারা জানান, শিগগিরই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের কেন্দ্রে ডাকা হতে পারে। প্রথমে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হবে এবং দল ক্ষমতায় এলে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হবে। তাতেও কাজ না হলে বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবেন, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। এতে দেখা যায়, ৬০টিরও বেশি আসনে দলীয় পদে থেকে শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বর্তমানে রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র বাছাই করছেন, যা চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। আপিল দায়ের করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বহিষ্কৃত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।
অন্যদিকে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবি করেছেন, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রিয়তাকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তবে কেউ কেউ জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা মেনে শেষ পর্যন্ত তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
কসমিক ডেস্ক